আইএম এফ এর গঠন ও কার্যাবলি

আমরা অনেকেই বিশ্বব্যাংক ও আইএম এফ এর কার্যাবলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারিনা । দুটোই আর্থিক প্রতিষ্টান কিন্তু দুটোর মধ্যেই অনেক পার্থক্য রয়েছে । প্রথমেই আইএমএফ এর সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হল ,পরে তার কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ (ইংরেজি: International Monetary Fund, IMF) জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদিত স্বায়ত্তশাসিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন দেশের মুদ্রামানের হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা এর প্রধান কাজ। এই সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৪৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ২৯টি দেশ চুক্তিতে উপনীত হয়েছিল।এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডি.সি. শহরে অবস্থিত। এপ্রিল ১২, ২০১৬ইং পর্যন্ত ১৮৯টি রাষ্ট্র এই সংস্থার কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
আইএমএফ এর কার্যাবলিঃ
——————————————-
আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেন বিনিময়ের জন্য এক দরকারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের মত কোন ‘উন্নয়ন’ প্রজেক্ট নেয়া বা ঋণ দেয়া আইএমএফ এর কাজ বা ম্যান্ডেট নয়। যদিও অন্য এক ধরণের ঋণ এই প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের মত দেশের ক্ষেত্রে বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও ব্যয়ের মধ্যে আয়ের চেয়ে ব্যয় প্রায়ই বেশি হয়ে থাকে। এটা স্থানীয় মূদ্রায় রাষ্ট্রের বার্ষিক আয়ব্যয় নয়। বেশির ভাগ সময় সরকার আয়ব্যয়ে সামঞ্জস্য বা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না। ছোট ঘাটতি পুঞ্জিভুত হতে হতে কোন কোন বছরে প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক সময় সিদ্ধান্ত বা আর্থিক অদক্ষতার কারণে এই ঘাটতি মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়। আয়ব্যয়ের এই ঘাটতিকে অর্থনৈতিক পরিভাষায় “ব্যালেন্স অব পেমেন্ট’ এর ঘাটতি বলা হয়। এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে কেবল “ব্যালেন্স অব পেমেন্ট’ এর ঘাটতি পুরণ করতে ঋণ দেবার কাজটা আইএমএফের। যদিও এটা আইএমএফের মুল কাজ নয়, আনুষঙ্গিক কাজ।
আইএমএফের মুল কাজ আইএমএফের মুদ্রা-র (নামSDR) সাপেক্ষে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের মুদ্রার মান নির্ধারণ করে দেয়া। প্রতিদিনের ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েন এই চারটার গড় বিনিময় হার, ডলারে প্রকাশ করলে সেটাই হয় ঐদিনের SDR এর মুল্যমান। আইএমএফের ওয়েব সাইটের প্রথম পাতায় ডলারে প্রকাশিত প্রতিদিনের SDR এর মান প্রকাশ করে থাকে। তবে তারা এই মুদ্রার মান নির্ধারণ করে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে যা বাধ্যতামুলক শর্ত হিসাবে মানতে হয় দেশগুলোকে ।যেমন জ্বালানির মূল্য (বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল, পেট্রোল প্রভৃতি) বৃদ্ধি করতে হবে, কৃষি ভর্তুকী হ্রাস , বেসরকারীকরণ ইত্যাদি ।
মোটকথা সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, এবং প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী করার কাজে সহযোগিতা দিতেই এই এই ঋণ দেওয়া হয়।
কেন দেশগুলো কে আইএমএফ এর দ্বারস্থ হতে হয়ঃ
———————————————————-
“ব্যালেন্স অব পেমেন্ট’ এ ঘাটতি দেখা দিলে কোন দেশের আইএমএফের কাছে যাওয়া ছাড়া গতি থাকে না। কারণ, ঘাটতি মানে আমদানীতে স্থবিরতা, এর প্রভাবে রপ্তানিতে স্থবিরতা, ডলার সঙ্কট, ফলাফলে স্থানীয় মুদ্রায় আভ্যন্তরীণ বিনিময় বাণিজ্যের মুখ থুবড়ে পরা– এমনি একটা চেন রিএকশন ঘটে। এসব চেইন রিএকশান বা ঘটনা পরম্পরার পরিণতি এড়াতে ঘাটতি মোকাবিলার জন্য আইএমএফ থেকে যে ঋণ পাওয়া যায়। তা পাবার ক্ষেত্রে শর্ত হয় – ঐ দেশের স্থানীয় মুদ্রার অবমুল্যায়ন ঘোষণা করা। তবে রাষ্ট্রের অর্থনীতি দক্ষতার সঙ্গে ম্যানেজ করতে পারলে, “ব্যালেন্স অব পেমেন্ট’ এ ঘাটতি না ফেলে আইএমএফের কাছে যাবার প্রয়োজন এড়ানো সম্ভব।
এ সংস্থাটি ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
______________________________________________
★কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন
(সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম ,ওয়েবসাইট ,ব্লগ থেকে সংগৃহীত, সম্পাদিত ,সংক্ষেপিত একটি লেখা।।
মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!