আফগানিস্থান সংকট (১ম পর্ব)

যদিও আফগানিস্তান ১৯৭৮ সাল থেকে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, এই আলোচনা আফগানিস্তানের মার্কিন আগ্রাসনের পরে, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ‘আফগানিস্তানের যুদ্ধ’ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে । এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে , আফগান বেসামরিক নাগরিকরা মূলত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে , বহু আক্রমণ হয়েছে বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে। এই সংঘাতের ফলে স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মতো পরিষেবাগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং অনেককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে । প্রায় সতেরো বছর পরেও ‘আফগানিস্তানের যুদ্ধের স্পষ্ট কোন শেষ দেখা যাচ্ছেনা । ২০১৫ সালে তালেবানদের পুনরুত্থান পরাশক্তিগুলোকে ভাবনার মধ্যে ফেলে দিয়েছে । এখন ৭০ শতাংশ জায়গা তালিবানদের দখলে । দীর্ঘ ১৮ বছরের এই যুদ্ধ ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন ।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি :
আফগানিস্তান জনসংখ্যা: 34,6 মিলিয়ন
মৃত্যু: 173,000
উদ্বাস্তু: আড়াই মিলিয়ন
বাস্তুচ্যুত মানুষ: 1.79 মিলিয়ন
আহত: 183,00
যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী পক্ষ সমুহঃ
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আফগানিস্তানঃ
২০০১ সালের ডিসেম্বরে তালেবান সরকার উৎখাত হওয়ার পরে গঠিত হয়েছিল। এটি তালেবান বিদ্রোহের বিরুদ্ধে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সাথে একযোগে কাজ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রঃ
১/১১ সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে ২০০১ সালের ৭ ই অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান আক্রমণ করেছিল। এই হামলাটি হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের উপায় হিসাবে নেওয়া হয়েছিল – বিশেষত আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন এর বিরুদ্ধে। এতে সফলতা এসেছিল সাময়িকভাবে । তবে সম্প্রতি ট্রাম্প-যুগে আফগানিস্তানে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন আফোগান কৌশল অনুযায়ী যুদ্ধ থেকে মার্কিন প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার পরিবর্তে ” আফগানিস্তান এর স্থিতিবস্থার” ভিত্তিতে হবে।
যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়াঃ
মার্কিন আক্রমণের জন্য প্রাথমিক সহায়তা সরবরাহ করেছে। এই দেশগুলি যুদ্ধজুড়ে সমর্থন এবং সৈন্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের সেনারা ২০১৪ সালে আফগানিস্তান ছেড়েছিল।
নর্দার্ন আলাইয়েন্সঃ
১৯৯৬ সালে তালেবান নেতৃত্বাধীন ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান সরকার ক্ষমতা অর্জনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং একটি সামরিক দল ছিল। জোটটি তালেবানের বিরোধিতা করেছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত ।এটি ২০০১ সালের ডিসেম্বরে তালিবান সরকার ভেঙে ভেঙে দেয়।
International Security Assistance Force (ISAF)ঃ
আফগানিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং আফগানিস্তানের সরকারী প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাত পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার লক্ষ্য এদের । এটি তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িত । জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের ১৩৮৬ রেজোলিউশনের দ্বারা ২০০১ সালে ISAF প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) পরে ২০০৩ সালে এটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং ডিসেম্বর ২০১৪ এ এই বাহিনীর সমাপ্তি ঘটে।
Operation Resolute Support , 1 জানুয়ারী, 2015 এ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি ISAF এর উত্তরসূরি হিসাবে কাজ করেছিল। ন্যাটোর নেতৃত্বে, এই অপারেশনটি আফগানিস্তানে ১৩,০০০ সেনা মোতায়েন করে যারা , মূলত স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা পালন করে।
তালিবানঃ
১৯৯৬ থেকে ২০০১-এর মধ্যে Islamic Emirates of Afghanistan (IEA) নামেও পরিচিত, পূর্ব ও দক্ষিণ আফগানিস্তানের অঞ্চলগুলির সুন্নি ইসলামিক দল। ২০০১ সালে IEA র পতনের পরে, তালেবানরা আফগানিস্তান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে।
আল কায়েদাঃ
সুন্নি ইসলামপন্থী চরমপন্থীদের একটি বহুজাতিক গোষ্ঠী। আফগানিস্তানে যুদ্ধে তারা তালেবানকে সমর্থন করেছে।
ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড লেভেন্ট – খোরাসান প্রদেশ (ISIL-KP)ঃ
আফগানিস্তানে আইএসআইএল পরিচালিত একটি শাখা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গঠিত, ইসলামিক মৌলবাদী গোষ্ঠী আফগান রাষ্ট্র এবং তালেবান উভয়ের বিরোধিতা করে।
জাতিসংঘঃ
জাতিসঙ্ঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে সহায়তা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করেছে। ২০০১ -এর বন কনফারেন্সের আয়োজন এবং 1378 এবং 1386 জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কতৃক রেজোলিউশোন যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আফগানিস্থানে স্থিতিশীলতা । একইভাবে, রাজনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠা, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) আফগান সরকারের অনুরোধে, টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের প্রচারের লক্ষ্যে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং জাতিসংঘের শিশুদের তহবিল (ইউনিসেফ) এর মতো জাতিসংঘের সহায়ক সংস্থাও আফগান নাগরিককে সহায়তা দিয়েছে।

এছাড়া ভারত,চীন,পাকিস্তান এর বৃহত স্বার্থ এইখানে জড়িত । এইটা নিয়ে একটি পর্ব তৈরী করা হবে।

আফগানিস্তানে গত 18 বছরেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র চায় নিরাপদ উপায়ে সৈন্য সমূহকে প্রত্যাহার করে নিতে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাতারে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল । অনেকটা সমাধানের পথে এগিয়ে গিয়েছিল কিন্তু শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যায়। ফলে আফগানিস্তান সংকট আরো দীর্ঘ মেয়াদে ঘনীভূত হতে থাকে । এ বিষয়ে পরবর্তী ধাপ সমূহ আলোচনা করা হবে। (চলবে)

//কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন ।
সুত্রঃ ১। বিভিন্ন আন্তুর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে অনুদিত,সম্পাদিত একটি মৌলিক লিখা। //

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!