বিভিন্ন দেশের সীমান্তরেখা ও সীমান্ত সংকটের স্বরুপঃ ১ম পর্ব

বর্তমান পৃথিবীর দেশগুলো ( আফ্রিকা,মধ্যপ্রাচ্যের দেশ,এশীয়ার বিভিন্ন দেশ) বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অন্যতম একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল হয়ে দাড়িয়েছে । এখানকার সংঘাতের পেছনে বিভিন্ন উপাদান কাজ করছে। তবে প্রত্যেকটি সংঘাতের পেছনেই অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, দারিদ্রতা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। তবে দেশগুলোতে অন্যতম একটি সমস্যা হল সীমান্ত সমস্যা। বিভিন্ন গবেষকদের মতে উপনিবেশীক শক্তিগুলোর সীমান্ত বিভাজনই সীমান্ত সংকটের প্রধান কারণ।
এ সীমান্ত সমস্যার কারণেই মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর মাঝে চরম বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারন জনগণ কে । এসব দেশগুলোতে এ দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতির জন্য আন্তঃবাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েছে। সীমান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে এখানকার দেশগুলো করছে অস্ত্রীকরণ। সীমান্ত সংঘাতকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে দেশগুলোতে অস্ত্রবাজি আরো বেড়ে যেতে পারে। আর অস্ত্রবাজি শুধু এ অঞ্চলকে সংঘাতপূর্ণই করে তুলবে, শান্তির পাথেয়কে আরো দুরে ঠেলে দিবে। তাই এইসব অঞ্চলের সংহতি বৃদ্ধিতে সীমান্ত সংকটের সমাধানের বিকল্প নেই।
যেমন কুর্দিস্তান সংকট,ডোকালাম সংকট ,কাশ্মির সংকট ইত্যাদি ইত্যাদি ।

এইসব সীমানা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন আসে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায়। আমরা শুরুতে পাকিস্তান -আফগানিস্তান সীমানা নিয়ে আলোচনা করব। সাড়া পেলে ধীরে ধীরে সমস্ত সীমানা সংকট নিয়ে আলোচনা করব। এইসব আলোচনায় আমরা দেখাব কিভাবে এই সীমানা সমস্যা এইসব অঞ্চলকে অস্তিতিশীল করে তুলেছে। এবং এই সংকটের মুলে কি রয়েছে । এতে সীমান্ত লাইনগুলো আর মুখস্ত করা লাগবেনা।

ডুরান্ড লাইন:
————————–
ডুরান্ড লাইন হল পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান বিভাজিত সীমান্ত চিহ্নিত রেখা। ডুরান্ড লাইন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৩ সালে ডুরাল্ড লাইন এগ্রিমেন্ট এর মাধ্যমে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ইন্ডিয়ায় ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির প্রতিনিধি মর্টাইমার ডুরান্ড এবং তৎকালীন আফগান শাসক আমীর আবদুর রহমান খান এর মধ্যে। এই লাইন বেলুচিস্তানের মধ্য দিয়ে গেলেও আশ্চর্যজনকভাবে বেলুচিস্তান কে এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর উত্তরাধীকারসূত্রে ডুরান্ড লাইন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত চিহ্নিত রেখা হয়। কিন্তু এই লাইন নিয়ে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি বা তারা এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ চুক্তিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন করেনি।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বে পশতু ভাষাভাষি অঞ্চল এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের মধ্যে পশতু গোষ্টী বসবাস করে। এই পশতুরা হল আফগানিস্তানের একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী যারা এ অঞ্চলে হাজার হাজার বছর পূর্ব হতে বসবাস করে আসছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর এজন্য আফগান সরকার ডুরান্ড লাইনকে দু’দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং আফগান সরকার মনে করে এই চুক্তি ছিল একটি অকার্যকর চুক্তি। আফগান সরকার এজন্যও উদ্বিগ্ন যে, যদি এই সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করা হয় তাহলে ৫০ মিলিয়ন পশতুন জনগোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং তা আফগানিস্তানের জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার মনে করে এই সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এই সীমান্ত বিভাজন মেনে না নিলে পশতুন জনগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে বিদ্রোহ করতে পারে যা পাকিস্তানের জন্য উদ্বিগ্নের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

পশতু জাতিকে বিভক্ত করে দেওয়া এই সীমান্ত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিন্তান এখনো সংকটের মধ্যে রয়েছে। অথচ এই সীমানা ব্রিটিশদের তৈরি করে দেওয়া সীমানা। এটি তাদের পার্লামেন্টে পাশ করা কোন সীমানা আইন ও নয় ।

# বিশ্বের অন্যান্য সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ধীরে ধীরে আলোচনা করা হবে ।
//কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন ।
সুত্রঃ ১। বিভিন্ন ব্লগ , দেশীয় ,আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে সংগৃহিত , অনুদিত,সম্পাদিত একটি মৌলিক লিখা। //

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!