বিশ্বব্যাংক এর গঠন ও কার্যাবলি

বিশ্বব্যাংক (World Bank) একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা সংস্থা যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ঋণও অনুদান প্রদান করে। বিশ্বব্যাংকের অনুষ্ঠানিক লক্ষ্য হল বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন। সারা বিশ্বের ১৮৯টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এর প্রধান সদর দপ্তর ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে অবস্থিত। সংগঠনটির আর্টিকেলস্ অব এগ্রিমেন্ট (১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ সালে এ সংশোধনীটি কার্যকরী হয়) অনুযায়ী বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেকে সহজতর করা এবং পুঁজির বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, এ দু’টি উদ্দেশ্য হবে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান নিয়ামক। দুইটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিশ্বব্যাংক গঠিত: পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক (International Bank for Reconstruction and Development, IBRD) আর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (International Development Association, IDA)। বিশ্বব্যাংক বিশ্বব্যাংক গ্রুপের মোট চারটি সদস্যের মধ্যে একটি। অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান হল আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (International Finance Corporation, IFC), মিগা (Multilateral Investment Guarantee Agency, MIGA) ও আইসিএসআইডি (International Centre for Settlement of Investment Disputes, ICSID)।
বাংলাদেশের বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রমঃ
—————————————————-
সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক হতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থ-সহায়তা/ঋণ প্রক্রিয়াকরণের কার্যক্রম বিশ্বব্যাংক অনুবিভাগ পরিচালনা করে থাকে। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য নতুন Country Partnership Framework (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন করেছে এবং একই সঙ্গে CPF এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ‘ Systematic Country Diagnostic (SCD) Report’ প্রস্তুত করেছে। CPF -এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা বৃদ্ধি করা। ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে:
• Energy sector
• Inland connectivity and logistics
•Regional and global integration
• Urbanization
• Adaptive delta managemen
এছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক macro-economic stability and related cross-cutting challenges; human development and institutions and business environment পরিচালনায় ক্রমান্বয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
১৯৭২ সাল হতে জুন ২০১৮ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক (আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)) বাংলাদেশে’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কার্যক্রমে ২৮.৮৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ/অনুদান প্রদান করেছে। তন্মধ্যে জুন ২০১৮ পর্যন্ত ১৯.৭৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে। বর্তমানে ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকার গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের অর্থ-ছাড়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অর্থবছরে (২০১৭-২০১৮) বিশ্বব্যাংকের সাথে মোট ২.৯৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর কোন অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের সাথে সর্বোচ্চ কমিটমেন্ট। অনুরুপভাবে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক হতে ১.৪২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করা হয়েছে যা অদ্যাবধি কোন অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক অর্থায়নকৃত প্রকল্পের অনুকুলে সর্বোচ্চ বেশি অর্থ ছাড়। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশে মোট বৈদেশিক সহয়তার প্রায় ২৯% বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রদান করা হয়েছে।
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তি সমূহের নাম উল্লেখ করা হলোঃ
1| Bangladesh Municipal Water Supply and Sanitation Project (BMWSSP) Gi Project Preparation Advance (PPA)।
2 .Additional Financing for Chittagong Water Supply and Sanitation Project (CWSISP)
3. Digitizing Implementation Monitoring and Public Procurement (DIMAPP) Project
4. Dhaka Sanitation Improvement Project (DSIP) (PPA)
5. National Strategy for the Development of Statistics (NSDS) Implementation Support Project
6. Bangladesh Power System Security and Efficiency Improvement Project
7. Bangladesh Regional Connectivity Project-1
8. Enhancement and Strengthening of Power Transmission Networking Eastern Region Project.
9. Additional Financing II for Rural Electrification and Renewable Energy Development II Project
10. Investment Promotion & Financing Facility-II Project (IPFF-II)
11. Bangladesh Insurance Sector Development Project
বিশ্বব্যাংকের ঋনের শর্তঃ
——————————
বিশ্বব্যাংক কি শর্তে উন্নয়নশীল দেশোগুলোকে ঋন দেয় তা সচরাচর প্রকাশ করা হয় না। তবে ল্যাটিন ও আফ্রিকান দেশগুলোর বিশ্বব্যাংক থেকে ঋন নেওয়ার পর সরকারী কার্যক্রম লক্ষ্য করলে দেখা যায় বিশ্বব্যংক ও আইএমএফ মুলত ঋনদান কর্মসুচী চালু করে ওয়াশিংটন কনসেনসাস এর উপর ভিত্তি করে । বিশেষ দাতাদের শর্ত বা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এই শব্দটি শোনা যায়। বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর কথা সরাসরি না বলে ওয়াশিংটন কনসেনসাস কথাটি বলা হয়।১৯৮৯ সালে জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ এই ধরণাটির প্রবর্তক। তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।ওয়াশিংটন কনসেনসাস মূলত সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ওয়াশিংটন ভিত্তিক তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি সংস্কার প্যাকেজ। আর এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এবং ইউএস ট্রেজারি বিভাগ। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় নানা ধরণের সংস্কার কর্মসূচীর কথা বলে থাকে। এসব কর্মসূচী বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশকে শর্ত দেয়। । ওয়াশিংটন কনসেনসাস হলো এসব শর্তের একটি প্যাকেজ, যাতে তিনটি প্রতিষ্ঠানেরই একযোগে স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। কনসেনসাসে মূলত ১০টি সুপারিশ রয়েছে। যেমন, ১. আর্থিক নীতির শৃঙ্খলা। ২. সরকার কোন কোন খাতে ভর্তুকি দেবে ও বিনিয়োগ বাড়াবে তা নতুন করে ঠিক করা। যেমন, শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোখাতে সরকারের বিনিয়োগ ও ভর্তুকি বাড়ানো। ৩. কর খাতের সংস্কার-কর হার কমিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ। ৪. বাজার ঠিক করবে সুদের হার কত হবে। ৫. প্রতিযোগিতামুখী বিনিময় হার। ৬. বানিজ্য ব্যবস্থা উদার করা-বিশেষ করে আমদানিতে। যেমন, পরিমানগত বাধা তুলে নেওয়া। ৭. বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উদার করা। ৮. রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বেসরকারিহাতে ছেড়ে দেওয়া।৯. বিনিয়ন্ত্রনকরণ বা অভ্যন্তনীণ নিয়মনীতি শিথিল করা যাতে বাজারে কারো প্রবেশ বাধাগ্রস্ত না হয়।১০. স্বাত্ত্বাধিকারের (প্রোপার্টি রাইটস) ক্ষেত্রে আইনী নিরাপত্তা দেওয়া।
______________________________________________
★কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন
(সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম ,ওয়েবসাইট (erd portal) , ব্লগ থেকে সংগৃহীত, সম্পাদিত ,সংক্ষেপিত একটি লেখা। কপি করলে কার্টেসি দিতে ভুলবেন না ।
মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা(সুপারিশপ্রাপ্ত)
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!