বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরোধপুর্ন অঞ্চল ও সংকটের স্বরুপ

জেরুজালেম: জেরুজালেম এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত একটি নাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বব্যাপী আবারো আলোচনায় এসেছে এই নামটি। জেরুজালেম শহরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত সহস্র বছরের প্রাচীন ইতিহাস। বর্তমানে ইসরাইলেই অবস্থিত। এই শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি বলে গণ্য করা হয়। তিনটি ধর্মের সঙ্গে খুবই ওতোপ্রতোভাবে ও গভীরভাবে জড়িত জেরুজালেমের নাম। ইহুদী, ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি দেশই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। ফলে এই দুটি দেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে এই শহর এবং সেখানে থাকা কিছু বিশেষ ছোট ছোট স্থানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রাচীন কাল থেকেই ভয়াবহ সংঘর্ষ চলে আসছে।

শাত-ইল-আরবঃ
ইরাক — ইরান যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার মূল কারন ছিল শাত-ইল-আরব জলাধার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ১৯৭৯ সালে খোমেনির ক্ষমতায় আরোহনের পরবর্তী কয়েক মাস ‘শাত-ইল-আরব’ এর উভয়পার্শ্বের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে(ইরাক –ইরান) বিরোধ ক্রমশ যুদ্ধের দিকে গড়ায়। এই নদীটি ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত।

জম্মু ও কাশ্মীরঃ
জম্মু ও কাশ্মীর হল ভারতের কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল যা এতদিন সতন্ত্র রাজ্য ছিলো। কিন্তু এই অঞ্চলটি প্রধানত হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতের এই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলটির দক্ষিণে ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাব রাজ্য দুটি অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীরের উত্তরে পাক-অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল ও পূর্বে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকা এই দুই অঞ্চল নিয়ে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে ।
গোলান মালভূমিঃ
গোলান মালভূমি ১১৫০ কিলো মিটার আয়তনের একটি মালভূমি (Heights) যা গোলান পর্বতমালার অংশ। ইসরাইলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত সিরিয়ার এই অঞ্চলটি ১৯৬৭ সালের আরব ইসরাইলী যুদ্ধে ইসরাইল দখল করে নিয়েছিল। দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে এই গোলান। জায়গাটা বেশি বড় নয়, কিন্তু এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।এটি নিয়ে ইসরাইল আর সিরিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে ।
ডোকলামঃ
ডোকলাম বিবাদ বা ২০১৭ সালের চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধিতা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মধ্যকর সীমান্ত বিরোধকে বোঝায়। এই বিরোধ ঘটে চীনের সেনাবাহিনী যখন ডোকলামে সড়ক নির্মান শুরু করে, চীনে ডোকলাম এলাকা ডিক্ল্যাং, বা ডনল্যাং কাওচং (ডনল্যাং চারণভূমি বা চারণভূমির ক্ষেত্র) নামে পরিচিত। ১৬ জুন ২০১৭ সালে চীনের সৈন্যরা নির্মাণাধীন যানবাহন ও রাস্তাঘাট নির্মাণের সরঞ্জাম দিয়ে দখল করে একটি বিদ্যমান সড়কে দক্ষিণমুখী ভাবে ডোকলাম এলাকাতে নির্মান শুরু করে এবং এই অঞ্চলটি নিজের বলে দাবি করে, যখন ভারত ও ভুটান ভুটানের অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে।

নাগার্নো কারাবাখঃ
আজারবাইজানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছিটমহল নাগার্নো কারাবাখ নিয়ে ১৯৮৮ থেকে ৯৪ সাল অবধি জাতিগত আজেরি ও আর্মেনীয়দের মধ্যে লড়াই চলেছে । ১৯৯৪ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও দুপক্ষ এখনও কোন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। ছিটমহলটিতে বিভিন্ন সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। নগর্নো কারবাখের দুটো অংশ রয়েছে। জাতিগত আর্মেনীয়রা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নাম কারাবাখ। লাইন অব কন্টাক্ট এ দুই অংশকে বিভক্ত করে রেখেছে।

অরুণাচল প্রদেশঃ উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। এর দক্ষিণে ভারতের অঙ্গরাজ্য অসম, পশ্চিমে ভুটান, উত্তর ও উত্তর-পূর্বে গণচীন, এবং পূর্বে মিয়ানমার। অরুণাচল প্রদেশের আয়তন ৮৩,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার। চীন অঙ্গরাজ্যটির অংশবিশেষ নিজেদের বলে দাবী করেছে। এর রাজধানী ইটানগর।

স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জঃ দক্ষিণ চীন সাগরে কতকগুলো প্রবাল প্রাচীর এবং দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ একটি বিরোধপূর্ণ স্থান। প্রায় ৫ বর্গ কিলোমিটারেরও কিছু কম আয়তনের এই দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ব্র“নাই দাবি করে। দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা বিরাজ করে। ১৯৮৮ সালে চীনের সাথে ভিয়েতনামের এক সামরিক সংঘাত ঘটে। দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপ চীনের ও ভিয়েতনামের দখলে রয়েছে। সামরিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে দ্বীপপুঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন । কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের নৌ চলাচলের পথে অবস্থিত।

কুরিল দ্বীপঃ কুরিল দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া জাপানের নিকট হতে দ্বীপটি দখল করে নেয়।

শাখালিন দ্বীপপুঞ্জঃ এটা নিয়েও রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ। এখানে রাশিয়ার একটি নৌঘাটি আছে।

সেনকাকুঃ চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। চীনে এটি ‘দিয়াওয়াউ’ নামে পরিচিত। সেনকাকু দ্বীপ যা জাপানের কাছে পরিচিত, চীনের কাছে দিয়াওউ এবং তাইওয়ানের কাছে তিয়াওউতাই নামে পরিচিত। তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একেক সময়ে এটি একেক নামে পরিচিত হয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ এখন জাপানের কাছে। কিন্তু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক বা রেষারেষি বন্ধ হয়নি, ক্রমে বেড়েই চলছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপঃ
ফকল্যান্ড দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে ছোট্ট ৭৭৮টি দ্বীপের সমষ্টি। সবথেকে বড় দুটোর নাম পূর্ব এবং পশ্চিম ফকল্যান্ড। দ্বীপপুঞ্জের মোট আকার বেশি না, মাত্র ৪,৭০০ বর্গ মাইল। ১৯৮২ সালে এর জনসংখ্যাও ছিল খুব কম, ১,৮২০ জন মানুষ আর ৪ লক্ষ ভেড়া।। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সেনাবাহিনী এই দ্বীপ দখল করে নেয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আসলে ব্রিটিশ প্রোটেক্টোরেট। এর অর্থ দ্বীপটি স্বশাসিত এবং এর সামরিক দেখভাল করার দায়িত্ব গ্রেট ব্রিটেনের। দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীরাও প্রায় সকলেই ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত ছিল। আর্জেন্টাইনদের কাছে এই দ্বীপপুঞ্জ ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত।

আবু মুসা দ্বীপঃ
আবু মুসা দ্বীপ ইরান-এ অবস্থিত। আবু মুসা দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।১৯৭১ সালে শারজাহতে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা বৈঠকে শারজাহ চুক্তির মাধ্যমে ইরান এর অধিকাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। কয়েক বছর পূর্বে ইরান যোষণা দেয় যে, ইরানই হচ্ছে আবু মূসা দ্বীপ একমাত্র স্বত্বাধিকারী।
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপঃ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণদ্বীপ। ভারতে এই দ্বীপটি পূর্বাশা বা নিউমুর নামে পরিচিত।

//কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন ।
সুত্রঃ ১। বিভিন্ন ব্লগ , দেশীয় ,আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে সংগৃহিত সম্পাদিত একটি লিখা//

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!