ভারত-চীন পরাশক্তির সম্পর্কের এর অতীত ,বর্তমান ও ভবিষ্যত

ভারত, চীন উভয়ই ব্রিটিশ শাসনের তিক্ততা অনুভব করেছে। শুরুর দিকে চীন, ভারতের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। নেহেরু যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন একটি উক্তি প্রচলিত ছিল, ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই। ১৯৪৭-৬২ সাল পর্যন্ত ভারত তার প্রতিবেশী দেশ গুলোর সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে। নেহেরু সরকার ‘পাঞ্চশীল’ নামক প্রোগ্রামের পরিকল্পনা করে যা ছিল প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি। ভারত ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল বন্ধন ছিল। বলা হয়ে থাকে বৌদ্ধ ধর্ম ভারত থেকে চীনে প্রচলন হয়েছে।

সংকটের শুরুঃ
১৯৬২ সালে চীন দাবি করে ভারত তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, এবং তাদের উসকানি দিচ্ছে। যদিও ভারত সরাসরি তা অস্বীকার করে। তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামাকে ভারত আশ্রয় দিলে দুই দেশের সম্পর্ক চূড়ান্ত তিক্ততায় পৌঁছে। পরবর্তীতে আঁকশাই চীন (একটি স্থান, যা কাশ্মীরের পাশে অবস্থিত) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং চীন সেই যুদ্ধে জয় লাভ করে এবং আঁকশাই চীন দখল করে নেয়। যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে চীনের সাথে বিরোধ রয়েছে ভারতের।
নিম্নে বিবাদমান প্রধান সমস্যাগুলো আলোচনা করা হল ঃ

ভারত চীন সীমান্ত সমস্যা:
——————————-
ভারত, চীনের মধ্য কার সবচেয়ে বড় বিরোধ হচ্ছে বর্ডার সমস্যা। বর্তমান সময়েও দুই দেশের বিভিন্ন স্থান নিয়ে উষ্ণতর সম্পর্কের সৃষ্টি হচ্ছে। মূলত দুই দেশের বর্ডারের তিনটি স্থান নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সাশগ্রাম ভ্যালি নিয়ে চীনের সাথে বিরোধ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে পাকিস্তানের কাছ থেকে সাশগ্রাম ভ্যালি চীন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। উল্লেখ্য যে, চীন ৬২ সালের যুদ্ধে আকসাই চীন দখল করে নিয়েছে, যা সাশগ্রাম ভ্যালির খুব নিকটে। বর্তমানে একই অঞ্চলের লাদাখ নিয়ে বিরোধ চলছে দুই দেশের মধ্যে।
অন্যদিকে ভারতের মধ্যবর্তী বর্ডারের সিকিমের কিছু অংশ চীন নিজেদের দাবি করছে যা আরেকটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। সর্বশেষ, যে স্থানটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে তা হল ভারতের অরুণাচল প্রদেশ। চীন অরুণাচলকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।চীন ব্রিটিশদের ভাগ করা ‘লাইন অব কনট্রোল’ ও ‘জনসন লাইন’কে মেনে নিতে নারাজ, বরং চীনের দাবি ‘ম্যাক ডোনাল্ড লাইন’ অনুসারে বর্ডার নির্ধারণ করতে হবে। চীনের এই দাবির পিছনে বেশ কারণ রয়েছে, চীন জিনজিয়াং প্রদেশের সাথে তিব্বতের সরাসরি যোগাযোগ চায়। কিন্তু বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলো চীনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। ভারত চীনের সকল দাবিকে অস্বীকার করছে।১৯৯৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বর্ডার বিষয়ে শান্তি চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুসারে দুই দেশ বর্ডারে অস্ত্র ব্যবহার করবে না। ফলে চীন ভারত বর্ডারে আমরা কোন প্রকার অস্ত্রের ব্যবহার দেখি না। বর্ডার সমস্যা নিরসনে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে।

ডোকলাম সংকটঃ
————————
২০১৭ সালের চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধিতা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির মধ্যকর সীমান্ত বিরোধকে বোঝায়। এই বিরোধ ঘটে চীনের সেনাবাহিনী যখন ডোকলামে সড়ক নির্মান শুরু করে। চীনে ডোকলাম এলাকা ডিক্ল্যাং, বা ডনল্যাং কাওচং (ডনল্যাং চারণভূমি বা চারণভূমির ক্ষেত্র) নামে পরিচিত।চীন ও ভুটানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ডোকলাম এলাকা নিয়ে, যা ভারত, চীন ও ভুটানের সীমান্তের সংযোগ স্থলের খুব কাছে অবস্থিত।চীন ও ভুটানের বিপরীতে, ভারত ডোকলাম অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করেনি, কিন্তু ভুটানের দাবিকে সমর্থন করে।

ভারত-চীন পানি সমস্যাঃ
———————————
ভারতের নদীর পানির হিস্যার ২৯ শতাংশ ব্রহ্মপুত্রের। দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জলবিদ্যুতের প্রধান এক উৎস বিবেচনা করা হয় একে। ফলে এই প্রবাহে চীনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দিল্লির জন্য মহা উদ্বেগের ব্যাপার। গত ২৯ অক্টোবর ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ রিপোর্ট করেছে, চীন তিব্বত থেকে জিনজিয়াং পর্যন্ত পানি সরাতে এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ (অবশ্যই বিশ্বে সবচেয়ে বড়!) টানেল তৈরি করবে। এর মধ্য দিয়ে চীন মরুময় জিনজিয়াংয়ের একাংশকে সবুজ করতে আগ্রহী। আবার ভুটান-ভারত সীমান্তের খুব কাছেই চীন তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহে জাংমু ড্যাম তৈরি করেছে প্রায় এক দশক আগে, কিন্তু তা স্বীকার করেছে কেবল ২০১০ সালে। উপরন্তু, ২০১৩ সালে তৈরি নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তারা এরূপ আরও তিনটি ড্যাম তৈরির কথাও জানায়।ভারতও বসে নেই। ব্রহ্মপুত্রের ভাটিতে তাদের প্রকল্পগুলোও বিশাল। আসাম ও অরুণাচলে যথাক্রমে শুভনশ্রী ও দিবাং প্রকল্পের মাধ্যমে যথাক্রমে ২ হাজার ও ২ হাজার ৮৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের। পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলছে উভয় প্রকল্পের কাজ। যমুনার পানিতে চীন-ভারতের এরূপ প্রতিযোগিতামূলক ড্যাম ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন হ ওয়ার যথেষ্ট কারন রয়েছে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঃ
—————————–
ভারত ও চীনের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। চীনের পণ্য ভারতের বাজার সম্পূর্ণ রূপে রাজত্ব করছে। সম্প্রতি চীনের মোবাইল কোম্পানি শাউমি ভারতের এক নম্বর মোবাইল ব্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ২০০০ সালে চীন ভারতে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করত, বর্তমানে তা বেড়ে গিয়ে হয়েছে ৭০ বিলিয়ন। সম্প্রতি ভারত ও চীন মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে ৩.৯৫% হ্রাস পেয়েছে যা এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট ৩.৮৭ বিলিয়ন ডলার। তবে উভয় দেশ আশাবাদী যে ২০১৯ সালে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে. গত বছর ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সর্বোচ্চ ৯৫.৫৪ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে এই বছর বাণিজ্যটি ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে।চীনা তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে বাণিজ্যের ঘাটতি ২০১৭ সালের ৫১.৭১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে $ ৫৭.৮৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে ।

বিরোধের অন্যান্য বিষয়ঃ
—————————————–
চীনের প্রস্তাবিত ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোডপ্রকল্প ভারত শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। ভারতের দাবী চীন তার প্রভাব বিস্তার করার জন্য এই প্রকল্প নিয়েছে। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (ওবিওআর) প্রকল্পে বড় দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতই আপত্তি জানায়। কারন এর সঙ্গে ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে। কারণ এই রাস্তা যাচ্ছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে। অপরদিকে, ভারতের অভিযোগ চীন স্ট্রিং অফ পার্লস এর (মুক্তার মালা প্রজেক্ট) মাধ্যমে ভারতকে এক ঘরে করার ব্যবস্থা করছে। চীন পাকিস্তান এর গোয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমার সহ ভারতের প্রতিবেশী দেশ গুলোতে প্রভাব বিস্তার করে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টায় আছে। কিন্তু ভারত ও বসে নেই, ভারত ও সামনে এনেছে তার Anti string of pearls স্ট্রাটেজি যাকে Necklace of Diamond strategy ও বলা যায় অর্থাৎ শত্রুর নীতিতে শত্রু কেই ঘায়েল করা।
এছাড়াও ভারতের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে চীনের বিরোধ রয়েছে, যেমন- NSG তে ভারতের সদস্য পদের বিরোধিতা, মাসুদ আজহারের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ভারত ও চীনের মধ্যে বর্তমান সময়ে বিরোধ বেড়ে যাবার কারণ কিঃ
———————————————————-
চীন বর্তমান সময়ের ২য় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ। ২০২২ সালের মধ্যেই চীন এক নম্বর অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। স্বাভাবিক ভাবেই চীন চাচ্ছে পুরো বিশ্বে তাদের প্রভাব তৈরি করতে। তার জন্য প্রথমে প্রয়োজন আঞ্চলিক আধিপত্য। আর এই আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়েই ভারতের সাথে সবচেয়ে বড় বিরোধ। যেহেতু চীন দীর্ঘ দিন ধরে অন্তর্মুখী পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করত, ফলে কোন দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করত না। অপরদিকে ভারত স্বাভাবিকভাবেই আঞ্চলিক আধিপত্য উপভোগ করত। কিন্তু চীন যেহেতু আধিপত্য করতে চাচ্ছে ফলে দুই দেশের বিরোধ বৃদ্ধি পেয়েছে।পাকিস্তানের সাথে চীন ঐতিহাসিক সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে। OPEC ইকোনমিক করিডোর সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি পাকিস্তান, চীনা ভাষাকে তাদের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মালদ্বীপে চীনের আধিপত্য চলছে। নেপালের পুলিশ একাডেমী তৈরির জন্য চীন ৩৫০ মিলিয়ন টাকা উপহার দিয়েছে। শ্রীলংকার হাম্বানতোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য কিনে নিয়েছে। মায়ানমারের সাথে চীনের সুদীর্ঘ কালের সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন মায়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। একই ভাবে আফগানিস্তানের সাথেও চীনের সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্কও বেশ গভীর, বরং দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে । যদিও ভারত চীনের সাথে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে আমেরিকাসহ দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান সময়ে ভারত, তার সামরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করছে এবং পারমানবিক সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করছে চীনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। ভারত বর্তমানে পাকিস্তানের চেয়ে চীন নিয়েই বেশি চিন্তিত।সম্প্রতি চীন সি চিন পিং এর ক্ষমতাকে দীর্ঘ মেয়াদী করেছে। ভারতকে চাপ প্রয়োগের জন্য চীন বিভিন্ন দেশের সমুদ্র বন্দর সমূহকে ভাড়া নিচ্ছে। বাংলাদেশ, মায়ানমার, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকার সমুদ্র বন্দরে চীন তার কর্তৃত্ব সৃষ্টি করেছে। ফলে ভারত মহাসাগরে ভারতের প্রভার হুমকির মুখে।যেহেতু চীন বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে যেতে চাচ্ছে তাই প্রতিবেশী দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন খুবই প্রয়োজন। ভারতও একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দেশ। ভারতের জন্যও এটি খুব ক্ষতিকর। চীনের মত শক্তিশালী দেশের সাথে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক তাদের অর্থনীতির জন্যও হুমকি স্বরূপ। এই পরিস্থিতিতে ভারত বা চীন কখনোই যুদ্ধে জড়াবে না। আবার দুই দেশই চাচ্ছে আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে। এই মুহূর্তে তারা চাচ্ছে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে পরস্পরের স্বার্থ রক্ষা করতে। মোদীর সম্প্রতি সফরই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা বহন করে। একই সাথে মনে রাখা প্রয়োজন ভারত এবং চীন ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সেহেতু তাদের মধ্যে বিরোধ ব্রিকসের ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।পরিশেষে বলা যায় যে, ভারত বা চীন তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের কারণেই একে অপরের উপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে বিশ্বের দুই নেতৃত্ব স্থানীয় দেশের মধ্যে বিরোধ দুই দেশের অগ্রযাত্রার জন্যই অন্তরায়। কোন প্রকার যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার উপর নির্ভর করবে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়।

//কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন ।
সুত্রঃ ১। বিভিন্ন দেশীয় (ইতিবৃত্ত ব্লগ ) ,আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম থেকে সংগৃহিত , অনুদিত,সম্পাদিত একটি লিখা।

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!