মোবাইল প্রযুক্তি ও ইমেইল

মোবাইল ফোনঃ
১৯৪০ সালে মার্টিন কুপার মটোরলা (সিলিকন ভ্যালি কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা) আধুনিক মোবাইল ফোন আবিস্কার করেন। তাই তাকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়।এটি হলো এক ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস যার সাহায্যে সেলুলার নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উভয়মুখী বা দ্বিমুখী টেলিযোগাযোগ করা যায়। মোবাইল ফোনকে অনেক সময় সেলুলার ফোন, সেলফোন বা হ্যান্ড ফোনও বলা হয়।
সেলুলার টেলিফোনঃ সেলুলার টেলিফোন হলো এক ধরণের শর্ট-ওয়েভ অ্যানালগ বা ডিজিটাল টেলিযোগাযোগ যেখানে কোনো গ্রাহকের একটি মোবাইল ফোন থেকে কাছাকাছি অবস্থিত কোন ট্রান্সমিটারের মধ্যে ওয়ারলেস সংযোগ থাকে। ট্রান্সমিটারের কভারেজ এরিয়াকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। এর প্রতিটি ভাগকে বলে সেল। সেলুলার রেডিও সিষ্টেমে রেডিও সার্ভিসের সাথে ভূমি এলাকায় সিগনাল বা সংকেত সরবরাহ করা হয় যা নিয়মিত আকারের সেলে বিভক্ত। সেল ষড়ভুজাকার, বর্গাকার, বৃত্তাকার বা অন্য কোন অনিয়মিত আকারের হতে পারে। যদিও ষড়ভুজাকারই প্রথাগত।
সেল সিগন্যাল এনকোডিংঃ বিভিন্ন ট্রান্সমিটার থেকে প্রেরিত সিগন্যালগুলো আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত এনকোডিং পদ্ধতিকে বলা হয় সেল সিগন্যাল এনকোডিং। সেল সিগন্যাল এনকোডিং এর প্রকারভেদঃ
• FDMA- Frequency Division Multiple Access
• TDMA- Time Division Multiple Access
• CDMA- Code Division Multiple Access

মোবাইল ফোন প্রযুক্তির প্রকারভেদঃ বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
1. GSM- Global System For Mobile Communication.
2. CDMA- Code Division Multiple Access.

জিএসএম (GSM): GSM হল TDMA (Time Division Multiple Access) এবং FDMA (Frequency Division Multiple Access) এর সম্মিলিত একটি চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি। এই প্রযুক্তিতে মোবাইল ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে উচ্চগতির প্রযুক্তি GPRS(General Packet Radio Service) এবং EDGE(Enhanced Data Rate for GSM Evolution) ব্যবহৃত হয়।
জিএসএম (GSM) এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
1. সেল কভারেজ এরিয়া ৩৫ কি.মি.।
2. বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি(২ ওয়াট)।
3. ডেটা ট্রান্সফার রেট তুলনামূলক কম (৫৬kbps)।
4. আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা আছে।
5. ব্যবহৃত SIM কার্ড সহজলভ্য এবং যেকোন হ্যান্ডসেটে ব্যবহারের করা যায়।

সিডিএমএ (CDMA): এই প্রযুক্তিতে ডেটা পাঠানো হয় ইউনিক কোডিং পদ্ধতিতে। CDMA যে পদ্ধতিতে ডেটা আদান-প্রদান করে তাকে স্প্রেড স্পেকট্রাম বলা হয়। এটি একাধিক ব্যবহারকারীকে একই ফ্রিকোয়েন্সির ব্যান্ড শেয়ার করার সুবিধা দিয়ে থাকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন কম হওয়ায় এই প্রযুক্তিকে গ্রীণফোন প্রযুক্তি বলা হয়। মোবাইল অপারেটর সিটিসেল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
সিডিএমএ (CDMA) এর বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
1. সেল কভারেজ এরিয়া ১১০ কি.মি.।
2. বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
3. ডেটা ট্রান্সফার রেট তুলনামূলক বেশি (154kbps-614 kbps)।
4. আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা নেই।
5. ব্যবহৃত RUIM কার্ড যেকোন হ্যান্ডসেটে ব্যবহারের করা যায়।

মোবাইল ফোনের বিভিন্ন প্রজন্মঃ মোবাইল ফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও উন্নয়নের এক একটি পর্যায় বা ধাপকে মোবাইল ফোনের প্রজন্ম নামে অবিহিত করা হয়। এ পর্যন্ত আবিস্কৃত মোবাইল ফোনের চারটি প্রজন্মে ভাগ করা যায়। নিচে এসব প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

প্রথম প্রজন্ম (১৯৫০-১৯৮৯) :
১। এই প্রজন্মে এনালগ পদ্ধতির রেডিও সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়।
২। সেল সিগন্যাল এনকোডিং হলো FDMA।
৩। সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সি তুলনামুলক কম।
৪। কথোপকথন চলা অবস্থায় ব্যবহারকারীর অবস্থানের পরিবর্তন হলে ট্রান্সমিশন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
৫। এতে মাইক্রোপ্রসেসর ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
৬। একই এলাকায় অন্য মোবাইল ট্রান্সমিটারের দ্বারা সৃষ্ট রেডিও ইন্টারফারেন্স নেই।
৭। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু ছিলো না।
দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৯০-২০০০) :
১। এই প্রজন্মে ডিজিটাল পদ্ধতির রেডিও সিগনাল ব্যবহৃত হয়।
২। সেল সিগন্যাল এনকোডিং হলো FDMA, TDMA, CDMA
৩। সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং মাইক্রোওয়েভ ডিভাইসের অগ্রগতির ফলে মোবাইল কমিউনিকেশনে ডিজিটাল ট্রান্সমিশন সম্ভব হয়।
৪। উন্নত মানের অডিও এর জন্য ডিজিটাল মডুলেশন ব্যবহৃত হয়।
৫। ডেটা স্থানান্তরের গতি অনেক বেশী।
৬। ডেটার প্রতারনা রোধে সহায়তা করে।
৭। সর্বপ্রথম প্রিপেইড পদ্ধতি চালু হয়।
৮। সীমিতমাত্রায় আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু হয়।
৯। মোবাইল ডেটা ন্থানান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
১০। এমএমএস(MMS) ও এসএমএস(SMS) সেবা কার্যক্রম চালু হয়।
১১। জিএসএম পদ্ধতিতে ডেটা ও ভয়েস প্রেরন করা সম্ভব হয়।
১২। কথোপকথন চলা অবস্থায় ব্যবহারকারীর অবস্থানের পরিবর্তন হলে ট্রান্সমিশন অবিচ্ছিন্ন থাকে।
১৩। ক্ষেত্র বিশেষে অন্য মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের ট্রান্সমিটারের দ্বারা সৃষ্ট রেডিও ইন্টারফারেন্স হয়।
তৃতীয় প্রজন্ম (২০০১-২০০৮):
১। ডেটা স্থানান্তরে প্যাকেট সুইচিং ও সার্কিট সুইচিং উভয় পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়। তবে প্যাকেই সুইচিং পদ্ধতির সাহায্যে খুব দ্রুত ছবি ও ভয়েস আদান প্রদান করা হয়।
২। মডেম সংযোজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ডেটা আদান প্রদানের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়।
৩। EDGE পদ্ধতি কার্যকর হয়। ফলে অধিক পরিমান ডেটা স্থানান্তর হয়।
৪। ডেটা স্থানান্তরের গতি 2 Mbps এর অধিক।
৫। মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স ইত্যাদি সেবা কার্যক্রম চালু হয়।
৬। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা চালু হয়।
চতুর্থ প্রজন্ম (২০০৯-বর্তমান ) :
১। 4G এর গতি 3G এর চেয়ে প্রায় 50 গুন বেশী। এর প্রকৃত ব্যান্ড উইথ 10 Mbps আশা করা হচ্ছে।
২। টেলিভিশনের অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের ছবি এবং ভিডিও লিংক প্রদান করবে।
৩। আইপি নির্ভর ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক সিস্টেম কাজ করবে।

স্মার্টফোনঃ
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের মধ্যে স্মার্টফোন সবচেয়ে জনপ্রিয়।
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড, আই ওএস, সিম্বিয়ান ইত্যাদি ।
Android
২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে গুগল প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম রিলিজ করে যার নাম দেওয়া হয় “অ্যাস্ট্রো”। এর কিছুদিন পর এটির পরবর্তী ভার্সন “ব্যান্ডার” এবং “কাপকেক” মুক্তি পায়। এরপর থেকেই গুগল বর্ণানুক্রমিকভাবে কোন ডেজার্ট বা মিষ্টির নামে নামকরণের প্রবণতাটি গ্রহণ করে।
ইমেইলঃ
মেইল কি?
ইমেইল (পড়ুন ই-মেইল) হলো ডিজাটাল বার্তা। যেখানে কাগজ কলম ব্যবহার করার পরিবর্তে আপনি ব্যবহার করছেন কিবোর্ড এবং ফোন বা কম্পিউটার।

ইমেইল এড্রেস লেখার ক্ষেত্রে সবার প্রথমেই কাস্টম ইউজার নেইম লেখা হয় এবং @ এর পরে ডোমেইন নেইম লেখা হয়। যেমনঃ name@gmail.com
ইমেইল পাঠানোঃ সঠিক ভাবে যখন আপনি ইমেইল লিখে ফেলবেন অর্থ্যাৎ, ইমেইল এবং ইমেইল এড্রেস ঠিক ভাবে প্রদান করবেন, তখন ইমেইল পাঠানো মানে হলো সেই ইমেইলটি তার নির্ধারিত এড্রেসে পৌঁছে যাবে।
ইমেইলের মাধ্যমঃ প্রেরকের ইমেইল প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে থাকে ইমেইল সার্ভার। মেসেজ পাঠানোর প্রোটকলটির নাম হল এসএমটিপি(SMTP), এবং ইমেইল ক্লায়েন্টের কাছে কিভাবে ইমেইলটি গ্রহিত হবে তা বুঝতে প্রয়োজন হয় পিওপি(POP) এবং আইমএপি(IMAP) সার্ভার।

শুধু জিমেইল না, বৈদ্যুতিক বার্তা বা ই-মেইল পাঠাবার যেকোনো পরিষেবাতেই আপনি প্রাপকের নাম এর পর সিসি ও বিসিসি নামে আরো দুইটি ফাঁকা ঘর দেখবেন।

এ দু’টির অর্থ হলোঃ
CC: carbon copy
BCC: blind carbon copy

আপনি যখন কোনো একটি বার্তা একাধিক ব্যক্তিকে পাঠাতে চাইবেন, তখন cc এর ঘরে একে একে প্রত্যেকের ইমেইল ঠিকানা লিখবেন। এক্ষেত্রে সবার কাছে ঐ বার্তাটি পৌঁছে যাবে এবং প্রত্যেকেই দেখতে পারবেন প্রেরক এই বার্তাটি তিনি ছাড়া আর কাকে কাকে পাঠিয়েছেন।
bcc তেও এ রকম ভাবে একাধিক ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। কিন্তু এখানে পার্থক্য হলো, প্রাপক নিজের ইমেইল ঠিকানা ছাড়া আর কারো ইমেইল ঠিকানা দেখতে পারবে না এবং এভাবে সে জানতেও পারবে না বার্তাটি তাকে ছাড়া আর কাকে বা ক’জনকে পাঠানো হয়েছে।
ইমেইলের সীমাবদ্ধতা
ইমেইলের সবচেয়ে বড় যে সমস্যা রয়েছে তা হলো, অযাচিত বার্তা বা স্প্যাম মেইল।
এধরনের প্রচুর অযাচিত মেইলের ভিতরে আপনার কাংখিত ইমেইল খুঁজে পেতে এক ধরনের বেগ পেতে হয়। অবশ্য বর্তমানে অনেক প্রোভাইডার ফিল্টারিং এর মাধ্যমে স্প্যাম মেইলগুলোকে আলাদা করে রাখে কিন্তু তার পরেও এটি খুবই বিরক্তিকর। এক্ষেত্রে সঠিকভাবে রিপোর্ট করলেই স্প্যাম থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। (চলবে)

//কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন ।
সুত্রঃ ১। বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহিত সম্পাদিত একটি লিখা। //

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন(বিএসসি(ইঞ্জিঃ) ইন কম্পিউটার সায়েন্স)
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!