সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী

১৯৮৮ সালের ৭ জুন সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী আনা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে (২, ৩, ৫, ৩০,৬৮ ও ১০০) পরিবর্তন আনা হয়। সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ উত্থাপিত এ বিলটি ২৫৪-০ ভোটে পাস হয়। এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় দু’দিন পর অর্থাৎ ৯ জুন।
অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে নিম্নলিখিত মৌলিক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলঃ

১। রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতিদান করা হয়। (অনুচ্চেদ ২ক)
২। অনুচ্ছেদ ৩ এর Bengali-এর নাম Bangla তে পরিবর্তন করা হয়
৩। অনুচ্ছেদ ৫ Dacca-এর নাম Dhaka তে পরিবর্তন করা হয়।
৪। অনুচ্ছেদ ৬৮ এর “salaries” – শব্দটি “remuneration” তে প্রতিস্থাপিত করা হয়।
৫। মুল সংবিধানে ৩০ নং অনুচ্ছেদের তিনট উপ অনুচ্ছেদ ছিল । এই উপনুচ্ছেদ্গুলো উঠিয়ে ৩০(২) বহাল রাখা হয় । অর্থাৎ ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।
৬) ঢাকার বাইরে ৬টি জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করার বিধান চালু করা হয়। ১০০ নং অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে বলা হয় যে, রংপুর,যশোর,বরিশাল,কুমিল্লা ,চট্টগ্রাম ও সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ থাকবে। প্রধান বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারককে এক একটি স্থায়ী বেঞ্চে মনোনয়ন দিবেন।
৪। অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট এর সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয় ।
অষ্টম সংশোধনী মামলাঃ
অষ্টম সংশোধনীতে সংবিধানের ১০০ নং অনুচ্ছেদ সংশোধন করে হাইকোর্টের ৬টি বেঞ্ছ স্থাপন করা হয় ৬ টি জেলায়। এতে দুটি পৃথক রীট পিটিশনের মাধমে এই সংশোধনী অসাংবিধানিক ও ক্ষমতা বহির্ভুত বলে চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ ১৯৮৮ সালের ১৫ই আগস্ট রীট খারিজ করে দেয়। আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দেয়। পরে আপিল বিভাগ এ মামলায় রায় দিয়েছিল যে ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১০০ নং অনুচ্ছদের যে সংশোধন করা হয়েছে তা অসিংবাধিক ,ক্ষমতা বহির্ভুত এবং অকার্যকর। । ৮ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১০০ নং অনুচ্ছদের যে সংশোধন করা হয়েছে তা সুপ্রীম কোর্টের একাধিক আসন তৈরী করেছে এবং ইহা বিচার বিভাগের যে একেককেন্দ্রিক বৈশিষ্ট রয়েছে তাকে ধ্বংস করেছে এবং এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চের বিচারকদের বদলীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কে ক্ষুন্ন করার পথ করে দিয়েছে। সুতরাং উক্ত সংশোধনী “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ” নামক মৌলিক কাঠামো কে ধ্বংস করেছে। এ সংশোধনী সংবিধানের ৪৪,৯৪,১০১ এবং ১০২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। সংশোধনীটি ১০৮,১০৯,১১০,১১১ এবং ১১২ অনুচ্ছেদ কে অর্থহীন করেছে এবং ইহা প্রত্যক্ষভাবে ১১৪ অনুচ্ছেদ কে লংঘন করেছে ।তাছাড়া একটি স্থায়ী বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে মামলা হস্তান্তরের কোন বিধান সংশোধনীতে করা হয়নি। সুতরাং সংশোধনীটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক। তবে অন্যান্য বিধানগুলো অপরিবর্তিত রেখে দেওয়া হয় ।

বিঃদ্রঃ অষ্টম সংশোধনী মামলা থেকে উদ্ভুত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধারনা আর এ মামলার বিস্তারিত নিয়ে একটি লেখা পুর্বেই শেয়ার করে দেয়া হয়েছে। দেখে নেওয়ার অনুরোধ করা গেল।
————————————————————————–
★কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন

সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম,ব্লগ,সাংবিধানিক রাজনীতির বই, সংবিধান সংশোধন আইন থেকে সংগৃহীত, সম্পাদিত ,সংক্ষেপিত মৌলিক লেখা।

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!