সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী

পঞ্চম সংশোধনীর মতো বাংলাদেশের সংবিধানের আর একটি কালিমাময় সংশোধনী হলো সপ্তম সংশোধনী। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশে সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করে সংবিধানের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং দেশে সকল প্রকারের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করেন। এ সময় তিনি ‘সামরিক আইন প্রশাসক’ হিসেবে বেশ কিছু সামরিক আইন, ফরমান, অধ্যাদেশ, আদেশ জারি করে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত জারিকৃত সকল আদেশ, ফরমান ও উক্ত ফরমান দ্বারা ঘোষিত সামরিক আইন, গৃহীত কার্যাবলী নিয়োগকে বৈধতা দেবার জন্য ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিচারপতি একে এম নুরুল ইসলাম ‘সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করেন। বিলটির পক্ষে ২২৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন আর বাকিও সাংসদরা সংসদ বয়কট করেন। এরপর বিল ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির নিকট অনুমোদন পায়।
এই আইন দ্বারা সংবিধানের ৮৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়; এর দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের সংশোধন করা হয় এবং তাতে ১৯ প্যারাগ্রাফ নামে একটি নতুন প্যারাগ্রাফ যুক্ত করা হয়। আর এই বিলটিই ‘সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন, ১৯৮৬ নামে পরিচিত।

সংবিধানের ৭ম সংশোধনীর বিষয়বস্তুঃ

১। বিচারপতিদের বয়স সীমা ৬২ থেকে ৬৫ তে প্রতিস্থাপন।

২। ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত জারিকৃত সকল আদেশ, ফরমান অধ্যাদেশ এমনকি সামরিক আইনের বৈধতা প্রদান।

সংবিধানের ৭ম সংশোধনী বাতিলের উদ্যোগঃ
১৯৮৪ সালের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামের মসলা ব্যবসায়ী আবু তাহের খুন হবার পর ২৪ ডিসেম্বর এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়। সাধারণ আদালতে মামলাটি চলছিল। তবে ১৯৮৬ সালের ১২ মার্চ মামলাটি মার্শাল ল’ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। আর এতে সিদ্দিক আহমেদ, নূর মোহাম্মদ ও নুরূল আনোয়ারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয় তবে সে সময় সিদ্দিক আহমেদ পলাতক ছিলেন। পরে ২০০৬ সালের ২ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হলে তিনি সামরিক শাসন, সামরিক আদালত ও সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল ‘সংবিধানের ৭ম সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না’- এ বিষয়ে রুল জারি করা হয়; রুলের পর ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ বলে রায় দেয়; আর রায় ঘোষণার ৪ মাস পর ২৯ ডিসেম্বর বিকেলে হাইকোর্টের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়.
সপ্তম সংশোধনীর বর্তমান অবস্থাঃ
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেন কর্তৃক ঘোষিত হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যম সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয় এবং এরশাদকে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রায়ে অতীতে যারা সামরিক শাসন জারি করেছিলেন তাদের বিচার করা প্রয়োজন বলে বলা হয় কারণ এর ফলে ভবিষ্যতে বে-সামরিক শাসন জারির অপচেষ্টা করবে না।

★কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন
সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম,ব্লগ,সাংবিধানিক রাজনীতির বই থেকে সংগৃহীত, সম্পাদিত ,সংক্ষেপিত একটি লেখা।

মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!