সংবিধানে বর্ণিত সংবিধান সংশোধনীর বিধান

সংবিধান সংশোধন বলতে বোঝায় সংবিধানের কোন অংশের পরিবর্তন করা। সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা শুধুমাত্র সংসদের আছে। সংসদ যখন সংবিধানের কোন অংশের পরিবর্তন বা সংশোধন করে তখন তাকে সংবিধান সংশোধন বলে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাদের সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ আইন দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণ করতে পারে। যদিও সংবিধানের বৈশিষ্ট্য স্থায়ী, কিন্তু ভবিষ্যতের উন্নতি ও জনকল্যাণের স্বার্থে তা সংশোধন করা যেতে পারে। তবে সংশোধনের নামে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোন পরিবর্তন করা যাবে না।
ভারতের সংবিধানে সংবিধান সংশোধনীর বিধানঃ
———————————————————————-
ভারতীয় সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতি মুলত ৩৬৮ ধারায় বিস্তারিত ব্যক্ত করা হয়েছে। এই ধারাটি নিম্নরুপঃ
১। পার্লামেন্ট তার ক্ষমতা বলে সংবিধানে যা কিছু আছে তার সংযোজন , পরিবর্তন করতে পারে ।
২। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল কেবলমাত্র সংসদের যেকোন কক্ষে হতে পারে এবং প্রত্যেক কক্ষে সে কক্ষের মোট সদস্যের অধিকাংশ এবং উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটদানকারী কর্তৃক গৃহীত হলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত হবে এবং তিনি বিলে সম্মতি দিলে অনুসারে সংবিধান সংশোধিত হবে।
৩। ১৩ নম্বর ধারায় কোন কিছুই দ্বারা সংশোধিত হবে না।
৪। সংবিধানের তৃতীয় অংশসহ সংবিধানের যে কোন অংশ সংশোধন করা হলে সে সম্পর্কে আদালতে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না (৪২ তম সংবিধান সংশোধন)
৫। এই ধারা অনুযায়ী সংবিধানের ধারা সংযোজন পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদে রয়েছে। তবে কোন প্রকার সীমা থাকবেনা( ৪২ তম সংবিধান সংশোধনী) ।
ভারতীয় সংবিধানের বিভিন্ন অংশ সংশোধিত হয়েছে ১০৫ -এর অধিক বার।
বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতাঃ
———————————————————————-
সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারবে। কিন্তু এই সংশোধন করতে জাতীয় সংসদকে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তা নিম্নরুপঃ
১। অনুচ্ছেদ ১৪২ ক (অ) অনুযায়ী একটি বিল আনতে হবে , যেটিতে সংবিধানের কোন অংশ সংশোধন করা হচ্ছে তা লেখা থাকবে, এবং তা সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।
২। অনুচ্ছেদ ১৪২ ক (আ) অনুযায়ী এই বিলটি সংসদের মোট সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে তার সম্মতির জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
৩। অনুচ্ছেদ ১৪২ (খ) অনুযায়ী বিলটি উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দান করবেন। যদি তিনি ঐ সাত দিনের মধ্যে বিলটিতে তার সম্মতি দিতে ব্যর্থ হন তবে ঐ সাত দিন অতিবাহিত হবার পর তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করেছেন বলে ধরে নেয়া হবে।
মৌলিক কাঠামো সংশোধনের অযোগ্যঃ
————————————————–
২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ৭খ অনুচ্ছেদ সংযোজন করা এবং সংবিধানের কোন বিধানগুলো Basic structure বা মৌল কাঠামো হিসেবে গণ্য হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। এতে মৌলিক কাঠামোর একটা নতুন ধারনা তৈরী করে ।
অনুচ্ছেদ ৭খ অনুসারে নিন্মলিখিত বিধানগুলো হলো মৌল কাঠামো যা সংশোধনের অযোগ্য:-
– প্রস্তাবনা
– প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ১-৭খ।
– দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৮-২৫।
– নবম-ক ভাগ সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ক।
– একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদ অর্থাৎ ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল।
১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ২৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত আমাদের সংবিধানে মোট সতেরটি সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে এসব সংশোধনীর মধ্যে জিয়াউর রহমানের পঞ্চম সংশোধনী, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সপ্তম সংশোধনী ,অষ্টম সংশোধনীর একাংশ , ত্রয়োদশ সংশোধনী এবং ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক বাতিল করা হয়েছ।
______________________________________________
★কোন সাজেশান থাকলে কমেন্টে জানাবেন
(সূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম ,ওয়েবসাইট ,ব্লগ,সাংবিধানিক রাজনীতির বই থেকে সংগৃহীত, সম্পাদিত ,সংক্ষেপিত একটি মৌলিক লেখা। কপি করলে কার্টেসি দিতে ভুলবেন না ।
মুহাম্মদ ইরফান উদ্দীন
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা
৩৭ তম বিসিএস নন-ক্যাডার

Share :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!